বাংলাদেশের বর্তমানে পড়াশোনা করছে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী, তারমধ্য অনার্স পাশ করা শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫ লাখ। প্রতিবছর ১৫ লাখ শিক্ষার্থী জব মার্কেটে প্রবেশ করছে, আমাদের শিক্ষার্থীরা যদি অনার্স ২৪ বছরে শেষ করে তাহলে তারা ৭ বছর সুযোগ পাই তাহলে মোট চাকরী প্রার্থী ১ কোটি ৫ লাখ । আমাদের দেশে সরকারী বেসরকারী চাকরি মিলে চাকরী সুবিধা আছে ৭ লাখ । তাহলে প্রতি বছর ৮ লাখ শিক্ষার্থী চাকরীর জন্য থেকে যাচ্ছে, যা নিয়ে কেউ কাজ করছে না।



আমাদের এডটেক মার্কেট ১০ লাখ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে, এডটেক প্লাটফর্মগুলো যদিও ১ কোটি মানুষকে জব রেডিনেস এর জন্য এডুকেট করে, কিংবা স্কিল ট্রেইনিং দেয়, তাহলেও সেখান থেকে জব প্লেসমেন্ট হবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ। বাকি ৯০ লাখ কোথায় যাবে?

এটা কিন্তু একটা বার্নিং প্রবলেম।
শুধুমাত্র এই একটা সমস্যার কারণে আমাদের দেশের এডটেকগুলোর সত্যিকারের টোটাল এড্রেসেবল মার্কেট এর সাইজ আসলে অনেক কম হয়ে যাবে। যথেস্ট জব অপরচুনিটি নেই বলে একসময় যথেস্ট কাস্টমার তারা আর পাবেনা। আর মার্কেট সাচুরেটেড হয়ে যাচ্ছে, আরো বেশি ইফোর্ট দিতে হচ্ছে, যা আমাদের মতো দেশে মানুষের জন্য কঠিন বিষয়। এইসমস্যার সমাধান করা যেতে পারে সেটা হলো সমাধান হচ্ছে, বাকি ৯০ লাখকে গ্লোবাল মার্কেট এ প্লেস করা। এদের জন্য ফ্রিল্যান্স মার্কেট এর কথা ভেবে তেমন লাভ নেই মনে হয়। কারণ, এআই এর দাপটের কারণে এন্ট্রি লেভেল এর ফ্রিল্যান্স এর কাজ দিন দিন কমে যাবে এবং এগুলো কমতেই থাকবে।

আমাদের চোখ দিতে হবে সেমি স্কিলড কিংবা স্কিলড ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট এ। এমন কোন একটা ইনিশিয়েটিভ আসতে হবে মার্কেটে, যারা এই বিপুল সংখ্যক ট্রেইনড ম্যানপাওয়ারকে গ্লোবালি প্লেস করবে।
এরা কিভাবে কাজ করবে?
১) সারা পৃথিবীতে জব প্লেসমেন্ট এর অপরচুনিটিগুলো এনালাইসিস করে তারা ডাটাবেস বানাবে ঠিক কোন দেশে কোন ধরণের স্কিল এর মানুষদেরকে প্লেস করা যায়।
২) এডটেক কিংবা স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম/ডিগ্রি থেকে বের হওয়া ছেলেপিলেদের ডাটাবেস নিয়ে তারা গ্লোবাল জব ডাটাবেস এর সাথে ম্যাচমেকিং করবে।
৩) এদেরকে প্লেস করার জন্য এরপর গ্যাপ এনালাইসিস করে সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রয়োজনীয় কোন ট্রেইনিং কিংবা রেডিনেস প্রোগ্রাম এর এর সাথে তারা ম্যাচমেকিং করবে।
৪) আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে মিনিমাইজ করে এফিশিয়েন্ট একটা উপায়ে তারা এই মানুষগুলোকে বিদেশে প্লেস করার পাইপলাইন বিল্ড করবে
৫) জব সিকারদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটা তারা স্বচ্ছ উপায়ে, একটা ডিজিটাল প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে ম্যানেজ করবে, এবং কম খরচে করবে।
এরকম একটা ইনিশিয়েটিভ এই মুহুর্তে ভীষন দরকার আমাদের দেশে।

এটা যারা করতে পারবে, তারা নিজেরা তো বিলিয়ন ডলার কোম্পানি হবেই, দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত বেকারদের ক্যারিয়ার অপরচুনিটি তৈরি হবে, এবং দেশের রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনমান চেঞ্জ হয়ে যাবে।
বেসিক্যালি ট্র্যাডিশনাল আদম ব্যবসাকে তারা এফিশিয়েন্ট এবং অনেক বেশি ইফেক্টিভ করবে, এবং স্কিলড ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট কে স্কেল আপ করে অনেক বেশি ইমপ্যাক্ট তৈরি করবে।

এই সমস্যা গুলো নিয়ে লেখাটা যান্ত্রিকের ফাউন্ডারের ভাবনার সাথে আমার চিন্তাকে যুক্ত করেছি। ভারতে উন্নতির জন্য বাহিরে জব করার কারণে তারা ভালো করছে, চায়নাও তাই, আমি যখন আমার প্লাটফর্ম চিন্তা করি আমার ইচ্ছা ছিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মিডইস্টে প্লেস করানো তারা তাদের জায়গা দখল করা । কারণ তারাও যেখানে মানুষজন নিচ্ছে, এখন এই মার্কেটে কাজ করতে এসবুঝছি, বাংলাদেশের এডটেক ইন্ডাস্ট্রি শুধু ফোকাস করে ট্রেন্ডের উপর। যা, একটি স্যাচুরেটেড মার্কেট এবং উদাহরস্বরুপঃ আমাদের চিন্তাই থাকে যারা অ্যাডমিশন পড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল ই সেরা এখানে না পড়লে জীবন বৃথা কিন্তু আমাদেরকে যদি ট্রেইনাপ করা হতো যেখানেই পড়ো তুমি শিখো,তবেই ভালো করবে।। এইখানে কাজের জন্য আমি ৬ বছর ধরে কাজ করছি, মার্কেট প্রব্লেমকে অ্যানালাইসিস করেছি। অনেকেই আমায় বলে, তুমি শুরু করো না কেন , এটার উওর হলো, মার্কেট প্রবলেম ও সমাধান না নিয়ে মার্কেটে আসা মানে নিজেই বোকা বনে যাওয়া। আমি এই সমস্যা সমাধানের দারপ্রান্তে এসে গেছি। কম্পিলিড ল্যানিং সলিশন নিয়ে কাজ করছি, চাকরী সমস্যা সমাধান যদি পড়াশোনা না করতে পারে তাহলে আমাদের দেশের গ্রোথ যেমন হবে না আমাদের এডটেক নিয়ে কাজ করাও একদিন বন্ধ করে দিতে হবে।

চলেন এমন কিছু করি যা দেশের মানুষের জন্য কাজে লাগে।। হতাশাগ্রস্ত না বানিয়ে দেশের মানুষের জন্য বেটার কিছু করি আবার নিজের জন্য কিছু করি।।